Home / উপ-সম্পাদকীয় / প্রস্তুতি নাও এখনই

প্রস্তুতি নাও এখনই

এই সংবাদটি প্রিন্ট করুন
  •  
  •  
  •  

মুহাম্মদ হুসাইন বিল্লাহ

জীবনটা একটা খেলনা ভোজ পাতার মতো, খুবই সেন্সিটিভ হয় আমাদের প্রত্যেকের জীবন। সামান্য আঘাতেই যেমন ভোজপাতা ছিন্নভিন্ন হয়ে যায় আমাদের জীবনও ঠিক সেরকম একটি উদাহরণ।
আমাদের চাওয়া-পাওয়া আমাদের চিন্তাধারা আমাদের আবেগ অভ্যাস আমাদের জীবনের উপর মারাত্মক প্রভাব ফেলে।জীবনকে তাই এতো সহজ ভাবে নেওয়ার কোনই সুযোগ নাই এবং ভুল করার কোন অপশনই নাই।আমরা যদি ভুল করে বসি এবং সময়মত উপলব্ধি করতে না পারি তাহলে বাকি জীবনে এর জন্য অনেক পস্তাতেই হয়।
আমরা প্রত্যেকেই কিছুনা কিছু চাই আশাকরি এবং যা চাই তা এখনই পেতে চাই, এই জায়গাটা বড়ই চিন্তার বিষয়।আমার যতটা উপলব্ধি হয়েছে তাতে আমি এটাই বুঝি যে আমরা যা চাই তার জন্য আমাদেরকে আগে প্রস্তুত হতে হবে এবং নিজেদেরকে সেভাবেই তৈরি করতে হবে।মনে করুন আপনার স্বপ্ন হলো আপনি সরকারি আমলা অথবা ভালো একজন সরকারি পোস্টে চাকরি করবেন কিন্তু আগামীকাল সকালেই যদি আপনার উপর এই দায়িত্ব এসে পড়ে তাহলে আপনি তার জন্য করোটা প্রস্তুত আছেন?
নিশ্চয় সবকিছু ভুতুড়ে লাগবে তাই না?
মনে হবে আরে আমি তো এগুলো চেয়েছিল্ম কিন্তু ওখনই তো চাইনি!
হুম
আমি আজ এই জায়গাটা নিয়ে কিছু বলতে চাই।একজন মন্ত্রী তার সারাজীবনের পরিশ্রম আর অধ্যবসায় দিয়ে তিলতিল করে বড় হয় এবং একসময় সে একজন মন্ত্রীর মর্যাদা পায়।
হুট করে কেউ চাইলেই যেমন একজন মন্ত্রী হতে পারেনা তেমনি কাউকে না দেখে না বুঝে কেউ মন্ত্রীও হতে পারেনা এবং কারো উপর হঠাৎ করে কেউ এই দায়ীত্ব চাপিয়েও দেয় না। তাছাড়া কেউ যদি অপরিপক্ক থাকে এবং তার প্রতি যদি এই দায়িত্ব এসে পড়ে তাহলে সে হয়ে যায় সেচ্ছাচারি ও ক্ষমতার অপব্যবহারকারী।
সুতরাং কেউ যেমন চাইলেই বড় জায়গায় যেতে পারেনা ঠিক তেমনি ভাবে কেউ অপরিপক্ককালীন কোন বড় দায়ীত্ব পেলেও তা রক্ষা করতে পারেনা।
আমরা আমাদের জীবনে চাই তা অবশ্যই পাবো এটা আশা করেই আমরা সামনে পথ চলি কিন্তু আমরা যা চাই তা আমাদের পেতে হলে ধর্য অধ্যবসায় এবং বিনয়ী হতে হবে সেই সাথে হাড়ভাঙ্গা পরিশ্রম করে যেতে হবে বিরামহীনভাবে।আমাদের কাজই আমাদেরকে সামনেএগিয়ে নিয়ে যাবে আমাদের প্রভাবপ্রতিপত্তি ও প্রাচূর্য আমাদেরকে সামান্য সময়ের একটা বিনোদন দিলেও এর ব্যাপ্তি থাকে খুবই সংকীর্ণ এবং স্বল্পমেয়াদী। আর যা আমাদের পরিশ্রমের ফলে অর্জিত হয় তা হয় আমাদের জীবনের পাথেও।আমাদেরকে সুন্দর জীবনের স্বপ্ন দেখলে তার জন্য ত্যাক তিতিক্ষা অশ্রু ঘাম রক্ত দেওয়ার জন্য তৈরি থাকতে হবে।লক্ষ থাকবে জীবনে যত কষ্ট যন্ত্রণা আঘাত বাধাবিঘ্ন আর প্রতিকূল পরিস্থিতির উদ্ভব হোকনা কেন কোন কিছুতেই যেন আমাদেরকে থমকে দিতে না পারে।আমাদেরকে শারীরিক শক্তি দূর্বল হয়ে গেলেও যেন আমাদের মানুষিক শক্তি আমাদেরকে এগিয়ে নিয়ে যায়।এমন দৃঢ় সিদ্ধান্ত আর নিজের প্রতি এতটা কঠোর হতে পারলেই সাফল্য আর মাত্র কয়েকধাপ উপরে।
সুতরাং জীবনের জন্য যা অপরিহার্য করে নিচ্ছি আমরা তার জন্য আমাদেরকে অনেক কুরবানি ও ত্যাগ তিতক্ষার মাধ্যমেই আসবে।কতো অশ্রুপাত কতো জমাট কষ্ট নিয়ে সামনে এগিয়ে যেতে হবে সে চিন্তা বাদ দিয়ে শুধুই ভাবতে হবে অনেকটা পথ তো এগিয়েছি আর সামনে কিছুটা পথ বাকি।আমার মনে পড়ে সেনাবাহিনীর একটা ট্রেনিংয়ের কথা,কোন দেশের সেটা মনে করতে পারছিনা তবে আমার যা শিক্ষা হয়েছে সেটাই আপনাদের সামনে তুলে ধরছি।
প্রায় দশ সপ্তাহ হাড়ভাংগা পরিশ্রমের পরে এলিট বাহিনীতে তাদের নেওয়া হয়, এই বাহিনীর সর্বশেষ ধাপটি পার করতে নব্বই শতাংশ সদস্য ফেল করেন।ট্রেনিং দেখে আমি নিজেই আৎকে উঠেছিলাম।প্রচন্ড ঠান্ডার মধ্যে তাদেরকে কাটাতে হয় শেষ সপ্তাহে এবং পরনে শুধুই একটি খাটো টাইট প্যান্ট থাকে।
সর্বশেষ কয়েকটা দিন পার করতে হয় কেয়ামতের মতো ভয়াবহতা নিয়ে।জীবনের সব দুঃখ বেদনা ভুলে যাবে আর কিছুক্ষণ পরেই কিন্তু যখন ধারালো পাথরে উপর দিয়ে খালি গায়ে প্রচন্ড ঠান্ডার মধ্যে হামাগুড়ি দিয়ে যেতে হবে নিদৃষ্ট সীমানার কাছে।হাত থাকে পিচমোড়া করে বাঁধা। শুধু পায়ের শক্তি আর খালি গায়ে হামাগুড়ি দিয়ে যেতে হবে সেখানে।তার উপর আবার দুই মিনিট পরপরই প্রচন্ড ঠান্ডা পানি ঢেলে দেন কর্তব্যরত অফিসার।ঠান্ডা সেই পানিতে থাকে প্রচন্ড লবন মেশানো!
ধারালো পাথরের উপর দিয়ে পার হতে যেয়ে অনেকের দেহ কেটে রক্তাক্ত হয়ে যাচ্ছে তার উপর আবার প্রচন্ড ঠান্ডা লবন পানি!সে কি যন্ত্রণা আর কাতরানি!
আমি সেদিন সত্যিই কেঁদে ফেলেছিলাম জীবনের জন্য এই যুদ্ধা দেখে। এরাই হয় এলিট ফোর্সের সদস্য যারা দেশের প্রধানমন্ত্রীর নিরাপত্তার দায়ীত্ব পালন করবেন।তাদের এই অভিজ্ঞতা দেখে আমার নিশ্চিত মনে হয়েছিলো আমরা আরাম আয়েশের মধ্যে থেকে যে সুন্দর জীবনের স্বপ্ন দেখি তা একটা বাতুলতামাত্র।আদতে পরিশ্রম ছাড় কিছুই করতে পারবোনা আমরা।
জীবনের ছোট্ট একটা অংশ আমরা মাত্র ব্যায় করেছি কিন্তু এখন আমাদেরকে সিদ্ধান্ত নেওয়ার সময় যে আমরা সামনের জীবন কিভাবে কাটাবো।
অনেক কথা বলতে মন চায় কিন্তু সময়ের অভাবে নিজেকে অনেকসময় নাকাল হয়ে পড়ি।আমাদের সময় খুবই সংক্ষিপ্ত!
সুতরাং যা করার কোন ফাকিবাজি বা প্রতারণার মাধ্যমে সহজ পথ বেচে নেওয়া কোন বুদ্ধিমানের কাজ হতে পারেনা। আমাদেরকে সেভাবেই সামনে এগিয়ে যেতে হবে যেভাবে সমাজ আমাকে সুন্দর মানুষ হিসেবে দেখবে মানুষের জন্য যেন সামনে কিছু করতে পারি সেই চিন্তাভাবনাও আমাদের করতে হবে।আমরা মানুষ কোন বিচ্ছিন্ন প্রানী নই আমাদেরকে সমাজবদ্ধভাবে বসবাস করতে হয় তাই প্রত্যেকের উপর একটা সামাজিক দায়ীত্ব রয়েছে।আমরা সেই দায়ীত্ব পালন করতে চেষ্টা করবো এমনটা সকলের কাছেই কাম্য।

About WNN

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *