Home / মুসলিম-বিশ্ব / মুসলিম মানসে গতিসঞ্চার

মুসলিম মানসে গতিসঞ্চার

মুহাম্মদ হুসাইন বিল্লাহ

কয়েকদিন আগে ব্রাহ্মণবাড়িয়ার এক বয়স্ক ভদ্রলোক বল্লো,”তোমরা বাবারা ঢিলা (স্লো) হয়ে গেছো আর সব মেশিনের সাথে বড় হয়েছো”
মেশিন তোমাদেরকে মেশিনে পরিণত করেছে।”
তার কথা গুলো আমাকে খুবই ভাবাচ্ছে কয়েকদিন যাবত।
কথা তো তিনি এতোটুকুও অতিরঞ্জিত বলেন নি বরং প্রকৃত সত্য তিনি তুলে ধরেছেন।আমরা তো মেশিনের মতো হৃদয় বৃত্তহীন একটা রোবটে পরিণত হয়েছি এবং তার নজিরও আমরা রাখছি কিছু ক্ষেত্রে । the muslim world

যান্ত্রমানবের মতো অনবরত শুধু অর্থনৈতিক স্বাবলম্বী হওয়ার প্রবল আকাঙ্খা আর কর্পোরেট হাউজগুলা মুনাফালোভী সিদ্ধান্তের কারণে মনে হয়  কর্মী শ্রমিকরা শুধুমাত্র রোবট ছাড়া আর কিছুই নয়।
আর আমাদের যে হৃদয়বৃত্ত আছে এবং আমাদের আত্মা প্রশান্তিও কামনা করে তাই শুধু দেহের রিপুগত প্রশান্তি আর অধিক স্বেচ্ছাচারী বিলাসী জীবন যাপন আমাদেরকে সুখী করতে পারছেনা।
কারণ আমাদের দেহ এবং আত্মার সমন্বিত রূপ হচ্ছে মানুষ। সে আর দশটা প্রাণী মতো  নয়।
সুতরাং  শারীরিক ও পার্থিব সুখ আমাদেরকে প্রকৃত সুখী করতে পারেনা।
পশ্চিমা দুনিয়ার দিকে লক্ষ্য করলে বুঝতে পারবেন অথবা গুগল করে দেখুন তাদের সামাজিক  নৈতিক ও পারিবারিক অবক্ষয় ।এই যে একটা অচলাবস্থা, এর মূল উৎপাটনের জন্যই ইসলাম এসেছে এবং ইসলাম যে একমাত্র গতিশীল ও উচ্চমর্গীয় একটা আভিজাত্যপূর্ণ ধর্ম তা গত সাড়ে ১৪ শো বছর পূর্বেই প্রমাণ করে গেছে। the muslim world
আরবের একটা যাযাবর অহংকারী বদমায়েশ ও অশিক্ষিত হতদরিদ্র জাতিকে  বিদ্যুতের মতো গতিসম্পন্ন ও বিজয়ী করেছে শুধুমাত্র ইসলামই।
অন্য কোন ধর্মগ্রন্থ এটার সমকক্ষতা কখনো অর্জন করতে পারবেনা তা ইতিমধ্যেই প্রমাণিত হয়েছে।
কিছুদিন পূর্বে একটা গবেষণায় বল্লো আমেরিকানদের মধ্যে তরুণীদের ইসলাম গ্রহণের প্রবণতা বেশি পরিলক্ষিত হচ্ছে।
ব্যাপারটা মোটেও ছোট খাটো ব্যাপার না এবং আমাদেরকে এগুলো নিয়ে অবশ্যই অবকাশ আছে। একটা অশিক্ষিত হতদরিদ্র  বর্বর জাতিকে একটা মানদণ্ডের উপর স্থাপন করাটা কোন কাকতালীয় ব্যাপার হতেই পারেনা।
আমাদের সমাজের অর্থাৎ মুসলমানদের ধারণা যে আমরা মুসলিমই আছি এবং আমাদের এবাদত কবুলও হচ্ছে তাই তারা এবাদতখানায় কিছু নিদৃষ্ট দিনে হুমড়ি খেয়ে পড়ে।
কাজের কাজ তাতে কিছুই হয়না।
ইহকালীন তো নয়ই পরকালীন কোন কল্যাণ হয় বলে মনে হয়না।
আমি দেখেছি মুসলমানরা নামাজ আদায় করে সিয়াম পালন করে, হজ্জ উমরাহ পালন করে যাকাতও দেয় অন্যদিকে মুসলমানদের উপর বিধর্মীদের আগ্রাসন ক্রমশ বাড়ছে।একটার পর একটা রাষ্ট্র বোমার বিস্ফোরণে ছিন্নভিন্ন হয়ে যাচ্ছে, সন্ত্রাস দমনের নামে স্বজাতি হত্যা করছে তার ভাইকে, মেয়েদের ইজ্জতের কোন মূল্য নেই এখন, যে ইউরোপবাসীরা মুসলমানদের কাছ থেকে শিক্ষাগ্রহণ করেছে আজ তাদের কাছে ভিক্ষুকের মতো মাথা গুজার আশ্রয় চাচ্ছে! আর  যাদের উপর বোম্বিং বিপদজনক তাদের উপর চালানো হচ্ছে অর্থনৈতিক সন্ত্রাস অর্থাৎ অর্থনৈতিক নিষেধাজ্ঞা দিয়ে তাদের অর্থনীতিকে পঙ্গু করে দিচ্ছে।
একটার পর একটা রাষ্ট্র এভাবে মাটির সাথে মিশে যাচ্ছে,নিরাপদ নারীগুলো তাদের ইজ্জতের হেফাজত করতে পারছেনা শিশুরা তাদের এই বর্ণীল সময়ে স্কুলের বদলে এখন উদবাস্তু শিবিরে আশ্রয় নিয়েছে।এভাবে চলছে আমাদের গোটা মুসলিম ভূখণ্ড এবং ক্রমেই এর পরিধি বৃদ্ধি পাচ্ছে।আফগান ইরাক সিরিয়া লিবিয়া ফিলিস্তিন কাশ্মীর বসনিয়া সাইবেরিয়া হারজেগভিনাসহ পৃথিবীর বিরাট একটা অংশ যারা মুসলমান তাদের উপর চলছে প্রকাশ্যে ও নিরবে নির্যাতনের স্টিম রোলার!
আমাদেরই দেশ আশ্রয় দিয়েছে প্রায় বারো লক্ষ শরনার্থী!
কয়েকদিন আগেই কাশ্মীরকে অগুনের টুকরোয় পরিণত করা হয়েছে!
নব্বইয়ের দশকের সাইবেরিয়ার ইতিহাস পড়ে দেখুন সেখানকার বরফখন্ডের ভিতর থেকে এখনো আর্তচিৎকার ভেসে আসছে।
হযরত বিজয়ী ভূমধ্যসাগরের ওপারে সিসিলি আজ মুসলিম শূন্য!
এরপরও মনে করি আমরা মুসলিম আছি এবং আমাদের সালাহ যাকাত হজ্জ সবই হচ্ছে।
মনে করি বর্তমান সময়ের মুসলমানদের যে অবস্থা তা শুধুমাত্র আল্লাহর পরিক্ষা আদতে এটা যে আল্লাহর গজব সেটা আমাদের ভাবনায় আসেনা।
যারা মুসলমানদের অভুদ্যয় উত্থান ঘটানোর চেষ্টা করছে একশ্রেণির আলেম নামধারী কিট তাদের পথ রুদ্ধ করে দিচ্ছে তাদের উপর জুলুম করা হচ্ছে।
এভাবে যুগে যুগে প্রতিটি জনপদে যখনই কোন মানুষ সত্যের পথে আহ্বান করেছে তখনই একশ্রেণির ধর্মজীবীরা তাদের বিরুধীতা করেছে এবং আজও এই ধারা অব্যহত।
রাষ্ট্র তাদের কাছে অসহায় হয়ে পড়ে এবং রাজনীতিবীদরা ব্লাকমেইলের স্বীকার হয়ে তাদের পদাঙ্ক অনুসরণ করতে বাধ্য হন।
এতো কিছু হয়েছে সেই হিজরি ১২০ শতাব্দীর পর থেকে যা অব্যাহতভাবে চলে আসছে।মুসলমানদের যে লক্ষ্য আল্লাহ নির্ধারণ করে দিয়েছেন তারা সেই লক্ষ্য ভুলে অন্যের পুজারী এবং গোলামিত্বের শৃঙ্খলে আবদ্ধ হয়ে ইমান আমল নিঃশেষ করেছে অথচ আজও তারা মুসলিম দাবি করে!
আজকের বিশ্বের মুসলমানদের করুন অবস্থা দেখলে যে কোন সচেতন লোকের একটাই স্বীকারোক্তি দিতে বাধ্য হবেন যে “বর্তমান মুসলমানদের রব আল্লাহ নন” কারণ আল্লাহর ওয়াদার কোন লক্ষ্মণ পরিলক্ষিত হচ্ছে না।
আল্লাহর ঘোষণা অনুযায়ী মুসলমানদের সাহায্য করা আল্লাহর দায়িত্ব অথচ আজকের মুসলমানরা ইউরোপের রাস্তায় ভিক্ষা করছে কোটির কাছাকাছি।মানুষ উদবাস্তু হয়ে জীবন যাপন করছে শরনার্থী শিবির গুলোতে তাদের অসহায় পরিস্থিতি দেখলেই পরিস্কার হয়ে যাবেন যে কেউ।
আমাদের যে চলার গতি ছিলো, যে সংগ্রামের স্পৃহা সৃষ্টি হয়েছিলো আরবীয় যুগে সেই সাহস সেই দূর্বার গতিতে রুখে দাঁড়ানোর প্রত্যয় আজ কিছুই অবশিষ্ট নেই।
এখন মুসলমান নামক একটি ফসিল হয়ে আছি আমরা।

এরপরও মনে করি আমরা মুসলিম আছি এবং আমাদের সালাহ যাকাত হজ্জ সবই হচ্ছে।
মনে করি বর্তমান সময়ের মুসলমানদের যে অবস্থা তা শুধুমাত্র আল্লাহর পরিক্ষা আদতে এটা যে আল্লাহর গজব সেটা আমাদের ভাবনায় আসেনা।
যারা মুসলমানদের অভুদ্যয় উত্থান ঘটানোর চেষ্টা করছে একশ্রেণির আলেম নামধারী কিট তাদের পথ রুদ্ধ করে দিচ্ছে তাদের উপর জুলুম করা হচ্ছে the muslim world।
এভাবে যুগে যুগে প্রতিটি জনপদে যখনই কোন মানুষ সত্যের পথে আহ্বান করেছে তখনই একশ্রেণির ধর্মজীবীরা তাদের বিরুধীতা করেছে এবং আজও এই ধারা অব্যহত।
রাষ্ট্র তাদের কাছে অসহায় হয়ে পড়ে এবং রাজনীতিবীদরা ব্লাকমেইলের স্বীকার হয়ে তাদের পদাঙ্ক অনুসরণ করতে বাধ্য হন।
এতো কিছু হয়েছে সেই হিজরি ১২০ শতাব্দীর পর থেকে যা অব্যাহতভাবে চলে আসছে।মুসলমানদের যে লক্ষ্য আল্লাহ নির্ধারণ করে দিয়েছেন তারা সেই লক্ষ্য ভুলে অন্যের পুজারী এবং গোলামিত্বের শৃঙ্খলে আবদ্ধ হয়ে ইমান আমল নিঃশেষ করেছে অথচ আজও তারা মুসলিম দাবি করে! 
আজকের বিশ্বের মুসলমানদের করুন অবস্থা দেখলে যে কোন সচেতন লোকের একটাই স্বীকারোক্তি দিতে বাধ্য হবেন যে “বর্তমান মুসলমানদের রব আল্লাহ নন” কারণ আল্লাহর ওয়াদার কোন লক্ষ্মণ পরিলক্ষিত হচ্ছে না।
আল্লাহর ঘোষণা অনুযায়ী মুসলমানদের সাহায্য করা আল্লাহর দায়িত্ব অথচ আজকের মুসলমানরা ইউরোপের রাস্তায় ভিক্ষা করছে কোটির কাছাকাছি।মানুষ উদবাস্তু হয়ে জীবন যাপন করছে শরনার্থী শিবির গুলোতে তাদের অসহায় পরিস্থিতি দেখলেই পরিস্কার হয়ে যাবেন যে কেউ।
আমাদের যে চলার গতি ছিলো, যে সংগ্রামের স্পৃহা সৃষ্টি হয়েছিলো আরবীয় যুগে সেই সাহস সেই দূর্বার গতিতে রুখে দাঁড়ানোর প্রত্যয় আজ কিছুই অবশিষ্ট নেই।
এখন মুসলমান নামক একটি ফসিল হয়ে আছি আমরা।

দিকে দিকে মুসলিম সভ্যতার বিনাশ
দ্রুত যেভাবে মুসলিম সভ্যতার বিকাশ হয়ে মধ্যপ্রাচ্য ছাড়িয়ে পশ্চিম আফ্রিকা ও ইউরোপে ছড়িয়ে পড়েছিলো ঠিক সেভাবেই একদিন মুসলিম খেলাফত গুলো ভুমিকম্পের মতো তছনছ হয়ে গেলো। একের পর এক পরাজয় মুসলিম সভ্যতার বিনাশ হয়ে চলেছে এবং এর যে পরবর্তী পরিণতি ঘটে ছিলো তা ইতিহাসের পাঠকদের কারো অজানা নয় কিংবা সত্য ইতিহাস থেকে অনেকেই দূরে সরে আছেন।উমাইয়া খেলাফত আব্বাসীয় খেলাফত উসমানীয় খেলাফত তুলোর মতো ছিন্নভিন্ন হয়ে গেলো! 
আশ্চর্যজনক ভাবে সত্য যে কোথাও আল্লাহর সাহায্য আমি দেখতে পাইনি।
মুমিনদের সাহায্য করা আল্লাহর দায়িত্ব একথা খোদ কুরআনের বর্ণনা অথচ মুসলমানদের এমন বিভৎস পরাজয়ের সময় আল্লাহর কোন সাহায্যই মুসলমানরা পেলোনা!
এটা কি করে সম্ভব এখনো এর উত্তর আমি খুঁজে পাইনি।
আমাদেরকে সৃষ্টি করা হয়ে মানুষের কল্যাণের জন্য আমাদেরকে খলিফা গিসেবে বর্ণনা করেছে মানুষের নৈতিক ও আত্মিক পরিশুদ্ধতা এবং দুনিয়া ব্যাপি আল্লাহর এই সত্য দ্বীন প্রতিষ্ঠার জন্য আল্লাহ তা’আলা এজন্য মুমিনদের সাহায্য করার প্রতিশ্রুতি দিয়েছিলেন এবং আল্লাহর সাহায্য যে মুসলিমরা পেয়েছেন এটা তো ইতিহাস স্বীকৃত অথচ মুসলিম সভ্যতা গুলোর বিনাশ যখন হচ্ছিল তখন শুধু একই পরিস্থিতি দেখেছি এবং এই ধারা ক্রমান্বয়ে তরান্বিত হয়েছে। 
মুসলিম জনপদ গুলো যখন একের পর এক ধ্বংস হয়ে যাচ্ছিলো তখন কথিত  মুসলিম সিপাহসালারদের হেরেম ভর্তি নারী আর অবাধ মদের আসর পূর্ণ হয়েছিলো। 
বিপুল পরিমাণে মুসলিম শাসকদের বিলাসিতা ও অর্থনৈতিক অপচয় রাষ্ট্র পরিচালনায় ব্যার্থ করে তুলেছিলো।

চলবে…..
আগামী পর্বেঃ একটি যোদ্ধা জাতির আবির্ভাব

About WNN

Leave a Reply

Your email address will not be published.