Home / উপ-সম্পাদকীয় / সৌদির মার্কিন সেনা লালন আর বর্তমান অবস্থা

সৌদির মার্কিন সেনা লালন আর বর্তমান অবস্থা

এই সংবাদটি প্রিন্ট করুন
  •  
  •  
  •  

সৌদি আরব মিলিয়ন মিলিয়ন ডলার খরচ করে মার্কিন সেনা লালন করছে নিজের নিরাপত্তার জন্য অথচ ইয়ামেনি সেনাদের ড্রোন হামলা থেকে সৌদিকে নিরাপত্তা দিতে পারলো না। Bangla news todey.

অন্যদিকে ইরানের আকাশে মার্কিন অত্যাধুনিক ড্রোন গ্লোবাল হক তাদের আকাশ সীমায় প্রবেশ করার সাথে সাথেই তা ধ্বংস করে ফেলে সেই সাথে মধ্যপ্রাচ্যে দু’টি মার্কিন ঘাটি ও ওমান সাগরে মোতায়েন একটি উচ্চক্ষমতাসম্পন্ন যুদ্ধজাহাজকে টার্গেট করে ক্ষেপণাস্ত্র মোতায়েন করে ইরান।

এখানে যেটা আমি বলতে চেয়েছি তা হলো মধ্যপ্রাচ্যে নিরাপত্তার জন্য কোন বিদেশি শক্তির উপস্থিতি ভারসাম্য রাখবেনা এটা বুঝতে হবে।সৌদির উপর হামলা চালানোয় তাদের তেল উৎপাদন প্রায় অর্ধেকই নেমে এসেছে যা বিশ্ববাজারে প্রয়োজনীয় তেলের প্রায় পাঁচ শতাংশ।
যদি দ্রুত তাদের তেল শোধনগার মেরামত করে আবার উৎপাদনে যেতে না পারে সেক্ষেত্রে তেলের দাম বেড়ে যাবে।

এর আরেকটা কারণ এখন ইরানের তেলের উপর নিষেধাজ্ঞা আরোপ করে রেখেছে মার্কিন সরকার।
সুতরাং যারা সৌদির নিরাপত্তার দায়িত্ব নিয়ে নিরাপত্তা দিতে পারলো না তারা দায়িত্ব পালনের যোগ্য হতে পারেন না। সৌদি নিযুক্ত মার্কিন সেনারা চাইলেই এই হামলা রূখে দিতে পারতো কিন্তু তারা সেটা ইচ্ছা করেই করেনি।
কয়েকটি ড্রোন মার্কিনিদের রাডারে ধরা পড়বেনা এটা বিশ্বাসযোগ্য নয় বিশেষ করে বর্তমান টেকনোলজি’র সময়ে।আসল কথা হলো মার্কিনরা আমাদের মাথায় কাঠাল ভেঙ্গে খেতে চায়।আমাদের নিরাপত্তার জন্য তাদের কোন মাথাব্যথা নেই।মুসলিমরা জ্ঞানে-বিজ্ঞানে শক্তিশালী হোক, অর্থনৈতিকভাবে মাথা উঁচু করে দাড়াক তারা তা চায় না।মুসলমানদের উন্নয়নে তারা কোনভাবেই খুশি হতে পারেনা।সৌদি যুবরাজ মুহাম্মদ বিন সালমান মনে করছেন যুদ্ধে খুব সহজেই জয়লাভের আকাঙ্ক্ষার কিন্তু সেটা যদি সম্ভব হয় তাহলে ভালো তবে সেটা আর সম্ভব নয় বলে মনে হয়।

মধ্যপ্রাচ্যে ইরান এখন অনেক শক্তিশালী।
তাদের প্রযুক্তি হস্তান্তর করছে প্রতিরোধকামী শক্তিগুলোর কাছে।লেবাননের আনসারুল্লাহ, ফিলিস্তিনের হামাস,ইয়ামিনের হুতি বিদ্রোহীদের কাছে ইরান তাদের উদ্ভাবিত প্রযুক্তি টেকনোলজি সাপ্লাই করছে।ফলে মধ্যপ্রাচ্যে শক্তির ভারসাম্য এখন অনেকটা ক্রিটিকাল অবস্থার মুখোমুখি।

সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হলো ইরান সরাসরি অস্ত্র গোলাবারুদ সরবরাহ করেছে এমন কোন প্রমাণ এখনো পাওয়া যায়নি।সিরিয়ায় ইরানের সেনারা যুদ্ধের মোড় ঘুরিয়ে দিয়েছে বলা যায়,অবশ্য এখানে রাশিয়ার ভুমিকা স্বরন রাখতে হবে।ইরাকের উপর ইরানের প্রভাব আগেকার তুলনায় অনেক বেড়েছে সে কথা ইরাকের কর্মকর্তাদের বক্তব্য বিবৃতিতে স্পষ্ট হয়ে গেছে আরো আগেই।

বিদেশি সেনাদের জন্য ইরান এখন চোখের কাটায় পরিণত হয়েছে।তারা বলছে গোটা আরব উপদীপ ও মধ্যপ্রাচ্যের দেশগুলোর মধ্যে আগে হামলা না চালানোর চুক্তিতে আসতে।বিষয়টা প্রেসিডেন্ট এরদোয়ান, প্রেসিডেন্ট ইমরান খান সহ অনেকেই ইতিবাচক হিসেবে দেখেছেন।এখানে সৌদির ইরান আতংক বিবেক বিবর্জিত বিষয় বলে মনে করি। ইরান হুমকি দিলে সেটা দিচ্ছে ইসরায়েলের বিরুদ্ধে যা মুসলমানদের জন্য একটা ন্যায়সংগত অধিকার। ইসরায়েল মধ্যপ্রাচ্যের বিষফোঁড়া একথা এখন সবাই জানে। Bangla news todey
তাই ইরান তার নিজের নিরাপত্তার বিধান নিজেই তৈরি করেছে আর সৌদি আরব মিলিয়ন মিলিয়ন ডলার খরচ করে মার্কিন সেনা লালন করছে। ইরান প্রযুক্তিগত সাফল্য অর্জন করছে আর সৌদি পেট্রো ডলার পশ্চিমে পাচার করছে।

ইতিহাস বলে মুসলমানরা তাদের পতন ঠেকাতে পারেনি অস্ত্রের অভাবে নয় বুদ্ধির অভাবে এবং ঐক্যহীনতার কারণে। ড্রোনের আঘাতের পর তেলের উৎপাদন কমেছে ৫০ শতাংশঃসৌদি জালানি মন্ত্রী
রাণী ইসাবেলা যখন স্পেন আক্রমণ করে দখল করে নেয় তখন স্পেনের কাছে প্রায় ৬০০ মতো নৌযুদ্ধ জাহাজ অব্যবহৃত অবস্থায় ছিলো। সামরিক সক্ষমতা থাকা সত্তেও যারা এর সদ্ব্যবহার করেনা তাদের পতন ঠেকাতে আল্লাহ আসমান থেকে নেমে আসবেনা। সৌদিদের ভাগ্যে কি আছে তা শুধুমাত্র সময়ই বলে দেবে।
মুসলিম বিশ্বের সর্বশেষ সংবাদ পেতে আমাদের ফেসবুক পেইজে লাইক দিয়ে সাথেই থাকুন।

About WNN

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *